
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:- মাহমুদা সরকার
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাউলতিয়া ইউনিয়ন তথা পুরো গাজীপুরবাসীর কাছে এক অতি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম ছিল মরহুম হাজী আজগর আলী। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ত্যাগের মহিমা আজও এলাকাবাসীর হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। নিজের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন সমাজ ও মানুষের কল্যাণে।
সম্প্রতি তাঁর পৌত্র এবং পোড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান তাঁর দাদার এই গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিগুলো বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছেন।
ধর্মীয় ও শিক্ষায় অনন্য অবদান:
হাজী আজগর আলী ছিলেন একনিষ্ঠ পরহেজগার এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি পোড়াবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য নিজের অত্যন্ত মূল্যবান ‘পাঁচকুনি’ জমি বিক্রি করে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ মসজিদে দান করেছিলেন। এছাড়াও এলাকার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সালনা নাসির উদ্দীন মেমোরিয়াল স্কুলের উন্নয়ন কাজে একজন প্রাক্তন দাতা (ডোনার) হিসেবে তাঁর অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল।
মানুষের চলাচলের পথ সহজ করা:
জনকল্যাণে তাঁর সবচেয়ে বড় ত্যাগগুলোর মধ্যে একটি হলো রাস্তা নির্মাণে জমি দান। বর্তমান ২৩নং ওয়ার্ডের ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড থেকে শেহের আলীর বাড়ির পাশ দিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যে প্রশস্ত রাস্তাটি দিয়ে আজ হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে, সেই রাস্তার জন্য তিনি প্রায় ৭ বিঘা জমি নিঃস্বার্থভাবে দান করে গেছেন। এলাকাবাসীর চলাচলের কষ্ট লাঘবে তাঁর এই বিশাল ত্যাগ আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
রাজনৈতিক ও সামাজিক সুসম্পর্ক:
তিনি ছিলেন দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব, গাজীপুর-২ আসনের সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র মরহুম অধ্যাপক এম. মান্নান সাহেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আদর্শিক এই বন্ধুত্ব তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবসময় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
নাতির জবানিতে দাদার স্মৃতি:
সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “দাদা বলতেন— অতীত থেকেই কিন্তু বর্তমানের জন্ম। আজ আমরা যে সুন্দর পরিবেশে বসবাস করছি, তার পেছনে পূর্বসূরিদের অনেক ত্যাগ আছে। দাদার এই নিঃস্বার্থ সমাজসেবার কথা যেন আমরা ভুলে না যাই, সেই লক্ষ্যেই আমি তাঁর এই গুণের কথাগুলো ধারাবাহিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”
মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এই মহৎ মানুষটি অসংখ্য সামাজিক ও জনহিতকর কাজ করে গেছেন। বর্তমান যুগে যখন ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন হাজী আজগর আলীর মতো মানুষের জীবন ও আদর্শ আমাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। এলাকাবাসী ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।