
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত আল-রাজি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। শোকাহত শিশুটির পিতা অভিযোগ করেছেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তাঁর নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কার দফতরের দায়?
হাসপাতালের অনুমোদন, তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কয়েকটি রাষ্ট্রীয় বিভাগ সরাসরি দায়বদ্ধ—
1. স্বাস্থ্য অধিদফতর (DGHS): হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন, অনুমোদন ও মান নিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্ব তাদের।
2. সিভিল সার্জনের অফিস: জেলা পর্যায়ে হাসপাতালের নিয়মিত মনিটরিং করা বাধ্যতামূলক।
3. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স / উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা: স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও তদারকি।
4. প্রশাসন (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা / উপজেলা প্রশাসন): অনুমোদনহীন হাসপাতাল সিলগালা করার ক্ষমতা রয়েছে।
5. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর: ভুল চিকিৎসা বা প্রতারণামূলক সেবা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, এই অনুমোদনহীন হাসপাতালটি টাকার বিনিময়ে প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির সহায়তায় এতদিন ধরে চলতে পেরেছে। তারা দাবি করছেন—ঘুষের বিনিময়ে যেন কোনোভাবেই ঘটনাটি ধামাচাপা না দেওয়া হয়।
শোকাহত পিতার অভিযোগ।
শিশুটির পরিবার জানান, নবজাতক জন্মের পর অবস্থা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা ভুল সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা দায়িত্ব এড়িয়ে যান।
“আমার সন্তানের মৃত্যু সাধারণ ভুল নয়—এটা অবহেলা, এটা অন্যায়। এর বিচার চাই,”—জানান শিশুটির পিতা।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও সতর্কবার্তা
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও এ হাসপাতাল থেকে ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—
“অনুমোদনহীন হাসপাতাল চলবে কীভাবে? মানুষের প্রাণ নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ হোক।”
তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি।
এলাকাবাসী, মৃত নবজাতকের পরিবার ও সাধারণ জনগণের দাবি—
হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই।
অনুমোদন না থাকলে অবিলম্বে সিলগালা
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।
আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের মাধ্যমে যেন কেউ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে না পারে।
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বন্ধে নিয়মিত তদারকি
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে সতর্কবার্তা
মানুষকে সতর্ক করতে সামাজিক মাধ্যমে বলা হচ্ছে—
“সকলকে সতর্ক করার জন্য শেয়ার করুন।”
“এ হাসপাতালে আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে—সতর্ক থাকুন।”