1. sajeebjibon@gmail.com : gazipurnews24bd :
সুনামগঞ্জ-১: ‘ওয়ান-ইলেভেনের চেয়ারম্যান’ ও আ.লীগের ডোনার আনিসুল হকই বিএনপির প্রার্থী! - gazipurnews24bd
৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শনিবার| বিকাল ৩:২৯|
শিরোনামঃ
গাজীপুর সদর উপজেলায় ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত। জলাবদ্ধতা-মাদক নির্মূলই প্রথম লক্ষ্য: কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম কাজল গাজীপুরে আলহাজ্ব ইয়ার উদ্দিন স্কুল এন্ড মহিলা কলেজে দশম শ্রেণীর বিদায়ী অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত। **সালনায় জনদুর্ভোগ কমাতে নিজ উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার প্রশংসায় ভাসছেন আশরাফুল ইসলাম রাসেল** শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জনাব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ রাসেল রানা। মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: ব্লগার জিহান বাবুর উদ্যোগে অসহায় বৃদ্ধার পাশে সহায়তা। গাজীপুরের এক নিভৃতচারী দানবীর: স্মৃতিতে অমলিন হাজী আজগর আলী। নেত্রকোনায় ভোট কেন্দ্রে আগুন। জামালপুরে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান।

সুনামগঞ্জ-১: ‘ওয়ান-ইলেভেনের চেয়ারম্যান’ ও আ.লীগের ডোনার আনিসুল হকই বিএনপির প্রার্থী!

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৬, ২০২৫,
  • 3493 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:- সুনামগঞ্জ

ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত ও আর্থিক অনুদানের অভিযোগ; ক্ষুব্ধ তৃণমূল। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ায় ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার সঙ্গে আপস করে চলা ‘ওয়ান-ইলেভেন চেয়ারম্যান’ খ্যাত আনিসুল হক। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের অভিযোগ, তিনি কেবল ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সখ্যই রাখেননি, বরং আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নিয়মিত মোটা অঙ্কের নির্বাচনী অনুদানও দিয়েছেন।

ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত ও ‘ওয়ান-ইলেভেন’ যোগ

স্থানীয়দের দাবি, কমরেড নজির হোসেনের বাজার-সদাই করে রাজনীতিতে আসা আনিসুল হক দুই নেত্রী মাইনাস রাজনীতির রূপকার সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে ‘ওয়ান-ইলেভেনে’ উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নেন।

আওয়ামী লীগের ডোনার: গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি ক্ষমতাধরদের সঙ্গে আপস করে চুটিয়ে ব্যবসা করেছেন এবং অঢেল টাকা কামিয়েছেন।

নির্বাচনী অনুদান: সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচনে তিনি দলটির প্রার্থীদের মোটা অঙ্কের নির্বাচনী অনুদান দিয়ে আলোচনায় ছিলেন।

সর্বশেষ অনুদান: সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রণজিৎ সরকার এবং মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন উভয়ের জন্যই মোটা অঙ্কের অর্থ দেন বলে জানা গেছে।

প্রচারণায় অংশগ্রহণ: ২০১৮ সালের নির্বাচনে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সে সময় তিনি রতনের পক্ষে প্রচারণা ও আর্থিক অনুদান দেন।

বালু-পাথর মহাল লুটে নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি নির্বাচনী এলাকার বালু-পাথর মহাল ও কয়লাঘাটে চাঁদাবাজি করছেন।

তার ভাই আনোয়ারুল হক ডিবি কর্মকর্তা হারুনের ঘনিষ্ঠজন শাহ রুবেলের সঙ্গে জাদুকাটা নদী ইজারা নিয়ে প্রকাশ্যে নদীর তীর কেটে বালু লুট করছেন।

জাদুকাটা নদীর খতিয়ানে আনিসুল হক একাই দুটি খতিয়ানের মালিক।

অন্য ভাই এনামুল হক জনৈক ফারুকের নাম ব্যবহার করে বিআইডব্লিউটিএ’র নাম ভাঙিয়ে টোল-ট্যাক্স নিয়ে চাঁদাবাজি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, আনিসুলের দুই ভাই এনামুল ও আনোয়ারুল তার ক্ষমতার প্রভাবে জাদুকাটা নদীসহ বিআইডব্লিউটিএর ঘাট লুটে খাচ্ছেন।

তৃণমূলের ক্ষোভ ও বহিষ্কারের ইতিহাস

সুবিধাবাদী আনিসুলকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের দুঃসময়ে রাজপথ কাঁপানো নেতা কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়ন না দেওয়ার ক্ষোভ বিরাজ করছে বিএনপির তৃণমূলে।

তৃণমূলের অসন্তোষ: মধ্যনগর ১নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, “যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা করেছে, নির্বাচনে অনুদান দিয়েছেন তাদের বদলে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করলে ভালো হতো। সুনামগঞ্জ-১ আসনে আমরা হতাশ হয়েছি।”

সাবেক এমপি নজির হোসেনের স্ত্রীর মন্তব্য: সালমা নজির বলেন, “আনিস দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সঙ্গে মিশে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। সে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা মর্মাহত হয়েছেন।”

দল থেকে বহিষ্কার: অতীতে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও দলের বিরুদ্ধাচারণের কারণে ২০১৯ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত স্ক্যান্ডালের অভিযোগও রয়েছে, যার বিচার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল হুদা মুকুটও করে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যিনি অতীতে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বহিষ্কার হয়েছিলেন এবং ক্ষমতার সঙ্গে আপস করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা মর্মাহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে আনিসুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 gazipurnews24bd.com