
নিজস্ব প্রতিবেদক | গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাথোরা মৈশানবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘রিভেরি রিসোর্ট’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত এই রিসোর্টে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
লোকালয়ের ভেতরে অবস্থিত এই রিসোর্টে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা নির্দিষ্ট প্রবেশমূল্য নেই। বরং রুম প্যাকেজ নেওয়াই বাধ্যতামূলক। জানা গেছে, প্রতিটি রুম প্যাকেজের মূল্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, যা ১২ ঘণ্টার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। কিন্তু রুম নিতে কোনো পরিচয় যাচাই বা সম্পর্ক যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না। প্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ “বন্ধু” পরিচয়ে রুম ভাড়া নিতে পারছে অনায়াসে।
একজন প্রতিবেদক ছদ্মবেশে রিসোর্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে রিসেপশন থেকে তাকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই রুম ভাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। মেয়েবন্ধুর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কথা জানালেও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানান, “আপনার আইডি থাকলেই হবে, আর কিছু লাগবে না।”
রিসোর্টটিতে রয়েছে ২৬টি রুম, তবে নেই কোনো পারিবারিক বা সামাজিক বিনোদনের আয়োজন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিনই এখানে তরুণ-তরুণীদের আসা-যাওয়া দেখা যায়, যাদের অধিকাংশই আসে অসামাজিক উদ্দেশ্যে। পাশাপাশি মাদক সেবন ও কেনাবেচার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও চলছে অবাধে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। তারা সম্প্রতি রিসোর্টের প্রবেশগেটে ব্যানার টানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ব্যানারে লেখা ছিল—
“কাথোরা রিভেরি রিসোর্টের অবৈধ কার্যক্রম, নারীদের দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা বন্ধ করুন।”
গত ২৫ জুন স্থানীয়দের উদ্যোগে এই ব্যানার টানানো হয়। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তাদের ভাষায়, “একটি আবাসিক এলাকায় এ ধরনের রিসোর্ট পরিচালনা শুধু অনৈতিকই নয়, সমাজের তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি।”