
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:- আসলাম
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জয় দাসকে গ্রেপ্তারের পরও ক্ষোভ কমছে না। ভুক্তভোগী পরিবার, এলাকাবাসী এবং দেশের আপামর জনগণ এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
গত কিছুদিন পূর্বে কালিয়াকৈর উপজেলায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় যুবক জয় দাসসহ কয়েকজন মিলে মাদ্রাসাছাত্রী আশা মনিকে (ছদ্মনাম) অপহরণ করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত জয় দাসকে গ্রেপ্তার করে। তবে অভিযোগ আছে, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগী আশা মনির মর্মস্পর্শী বক্তব্য:
এই নৃশংসতার শিকার হয়ে আশা মনি (ছদ্মনাম) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি মাদ্রাসায় পড়তে যাচ্ছিলাম। ওরা জোর করে আমাকে ধরে নিয়ে গেল। আমার জীবনটা ওরা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি চাই যারা আমার সাথে এমন করেছে, শুধু জয় দাস নয়, এর সাথে যারা ছিল—তাদের যেন কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি হয়। তারা যেন আর কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করতে না পারে।”
এলাকাবাসী ও দেশবাসীর কঠোর শাস্তি দাবি:
এলাকাবাসী এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, প্রধান অভিযুক্ত জয় দাসকে শুধু নয়, এই ঘৃণ্য অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যারাই সহায়তা করেছে বা জড়িত ছিল, তাদের সকলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। মাদ্রাসাছাত্রীর নিরাপত্তা দিতে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর হতে হবে। এই নরপিশাচদের প্রকাশ্যে বিচার হওয়া উচিত।”
সমগ্র দেশের সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। তাদের সম্মিলিত আওয়াজ একটাই—নারী ও শিশুর প্রতি এমন সহিংসতা আর সহ্য করা হবে না। এই ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান:
ভুক্তভোগীর পরিবার এবং আন্দোলনকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের হাতে তুলে দেয়। তারা বিশ্বাস করেন, সম্মিলিত প্রতিবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল সমাজে এমন অপরাধের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব।