
নিজস্ব প্রতিবেদক | আমির হোসেন রিমন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ৪ মিনিট ১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে খয়েরি রঙের হুডি পরিহিত অবস্থায় ফয়সাল করিম মাসুদ দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডে ফাঁসানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে সেই দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ফ্যাক্ট চেকার ও ‘দি ডিসেন্ট’–এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে কদরুদ্দীন শিশির বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তারা যাচাই–বাছাই করেছেন। বিশ্লেষণে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটি ফয়সাল করিম মাসুদের নিজেই ধারণ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
ভিডিও ধারণের স্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি দুবাই, ভারত কিংবা বাংলাদেশ—ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো তথ্য নেই। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফয়সালের আরেকটি ভিডিও নিয়ে এখনো কোনো যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভাইরাল এই ভিডিও তদন্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ফয়সালের ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এটি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখান থেকে সরকারিভাবে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল (এসজিএইচ)-এ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।