
একটি ছোট্ট গ্রামে থাকত এক তরুণী। তার দুটি সন্তান, সংসার, আর বিদেশে থাকা স্বামী—যিনি মালদ্বীপে রক্ত-ঘামে ভিজে পরিবারকে সুখে রাখার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করতেন। সন্তানদের পড়াশোনা, সংসারের খরচ, মায়ের চিকিৎসা—সব কিছুর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্য… সেই তরুণীর জীবনে অন্য এক অধ্যায় শুরু হলো। গ্রামের এক ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া ছেলের সাথে গোপনে তৈরি হলো অস্বাভাবিক সম্পর্ক। রাতের আঁধারে, লোকচক্ষুর আড়ালে, তারা একসাথে সময় কাটাতে লাগল। অবশেষে একদিন প্রতিবেশীদের চোখে ধরা পড়ল সবকিছু।
সকালে যখন মানুষ জড়ো হলো, তখন সবাই হতবাক হয়ে গেল। দুই সন্তানের জননী সেই নারী নির্দ্বিধায় বলল—
“আমি এই ছেলেকেই বিয়ে করব!”
শুনে মানুষ হতভম্ব। কারও মুখে কথা নেই। কেউ বলছে—এ কেমন স্বার্থপরতা? কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে ঘৃণা। আর দূরে বসে গ্রামের মানুষের একটাই কথা—
“আহারে… যে মানুষটি বিদেশে থেকে পরিবারের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিলো, সেই প্রবাসী ভাইটির জন্য কত কষ্ট লাগছে।”
প্রবাসীর প্রতিক্রিয়া
মালদ্বীপে থাকা সেই স্বামী যখন ফোনে ঘটনাটা শুনল, তখন মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো—আকাশ ভেঙে মাথায় পড়েছে। তিনি স্তব্ধ হয়ে গেলেন। যে সংসারকে কেন্দ্র করে এত বছর ধরে ঘাম ঝরিয়েছেন, সেই সংসারই আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
কণ্ঠ ভারী হয়ে তিনি শুধু বললেন—
“আমার জীবনের সব স্বপ্ন যদি এভাবেই ভেঙে যায়, তবে বেঁচে থাকার আর মানে কী? আমি তো সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সব করেছি, অথচ তাদের মা-ই আজ সেই ভরসাটা ভেঙে দিল। হয়তো আমি দূরে আছি বলেই সে এমন করতে পেরেছে। কিন্তু আমার বুকের ভেতরের ক্ষত কি কোনোদিন সেরে উঠবে?”
এরপর তিনি আর কোনো কথা বলতে পারলেন না। ফোনের ওপাশে কান্নার শব্দ শুনে যারা পাশে ছিল, তারাও চোখ মুছে নিল।